ফুলছড়িতে অ-পেশাদার ব্যক্তিদের কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে প্রেসক্লাবের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের পেশাদার সাংবাদিকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হাফিজুর রহমান বাবু সহ কিছু দলীয় নেতাকর্মী কোনো গণমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা না থাকলেও নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন,
ফুলছড়ি প্রেসক্লাব ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তৎকালীন সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে আমরা সকলে মিলেমিশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
২০০৬ সালে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক দপ্তরগুলো কালিরবাজারে স্থানান্তরিত হলে সেখানে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষিতে আমরা আইয়ুব হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে কালিরবাজারে প্রেসক্লাবের একটি কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দিই এবং তিনি প্রাথমিকভাবে এতে সম্মতি জানান।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে প্রেসক্লাবের একটি সভা আহ্বান করা হয়। তবে ওই সভায় আইয়ুব হোসেনসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকায় আমরা নতুনভাবে পথচলার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই। সাংবাদিক শামসুজ্জোহা বাবলু, মোনায়েম, মুক্তার, মকবুল হোসেন, শাহ আলম যাদু এবং আমি-সহ কয়েকজন মিলে উপজেলা সদর কালিরবাজারে “ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব” নামে কার্যক্রম শুরু করি। তখন আমাকে আহ্বায়ক এবং শাহ আলম যাদুকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তবে পারস্পরিক সম্মানবোধের জায়গা থেকে আমরা কখনো বিভাজনকে বড় করে দেখিনি। এমনকি প্রশাসনিক সভাগুলোতেও আমি আইয়ুব হোসেনের প্রতি সম্মান রেখে আলাদা পরিচয় তুলে ধরতাম না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয় এবং ২০১২ সালের শেষ দিকে উভয় পক্ষ একত্রিত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়।
২০১৩ সালের মে মাসে আইয়ুব হোসেন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার আগে ঐক্যবদ্ধ কমিটি ঘোষণার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি আর জীবিত ফিরে আসেননি। তাঁর এই অকাল প্রয়াণের ফলে ঐক্য প্রক্রিয়াটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীকালে গজারিয়ায় ফুলছড়ি প্রেসক্লাব এবং কালিরবাজারে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব—এই দুটি সংগঠন আলাদাভাবে কার্যক্রম চালালেও আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য অটুট ছিল। বিভিন্ন সময় নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও পেশাগত সম্পর্ক বজায় ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বাবু সহ কিছু দলীয় নেতাকর্মী, যারা কোনো গণমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন, তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গজারিয়ায় অবস্থিত ফুলছড়ি প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে যার বৈধ সভাপতি আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তুহিন। তাদের পাশ কাটিয়ে প্রেসক্লাবটি দখলের চেষ্টা সত্যিই দুঃখজনক। এটি শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা, যেখানে স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ সাংবাদিকতার স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একজন সাবেক সদস্য হিসেবে আমি এ ধরনের অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—সাংবাদিকতার পবিত্র অঙ্গনে অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকুন। স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টর: 








