বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈ/ধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব প্রশাসন নিরব

গাইবান্ধার সাঘাটায় করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । ৮ থেকে ১০ টি স্থানে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তলদেশ কেটে এসব বালু তুলছেন একটি প্রভাবশালীচক্র।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে মাসিক চুক্তির বিনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবী অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া, হিন্দুপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে  ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এই বালু  উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে নেয়া হচ্ছে । ফলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীন জনপদের বিভিন্ন কাচাঁ পাকা সড়ক ।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ এসব কার্যক্রম চললেও রহস্য জনক কারণে কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি। ফলে বালু উত্তোলন যেন এক প্রকার ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

‎স্থানীয়রা জানান,অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে নদী ভাঙনের ঝুঁকি। হুমকির মুখে পড়েছে নদী পাড়ের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। বালুবাহী ভারী ট্রাকের দাপটে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেড়েছে ধুলাবালির যন্ত্রণা ও জনভোগান্তি।

‎এলাকাবাসী আরো জানান, ‎সরকারী ভাবে নদী খনন করার পরে আমরা মনে করছিলাম আমাদের ঘর বাড়ী রক্ষা হল। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে  গভীর গর্তের কারনে  এই নদীই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

‎দিন-রাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে থাকা খুব কষ্ট কর হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং যারা জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

 

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীর  জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card

পলাশবাড়ীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন

04 February 2026

পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের নির্বাচনী মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

https://www.dainikbd24.com

গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈ/ধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব প্রশাসন নিরব

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । ৮ থেকে ১০ টি স্থানে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তলদেশ কেটে এসব বালু তুলছেন একটি প্রভাবশালীচক্র।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে মাসিক চুক্তির বিনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবী অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া, হিন্দুপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে  ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এই বালু  উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে নেয়া হচ্ছে । ফলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীন জনপদের বিভিন্ন কাচাঁ পাকা সড়ক ।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ এসব কার্যক্রম চললেও রহস্য জনক কারণে কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি। ফলে বালু উত্তোলন যেন এক প্রকার ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

‎স্থানীয়রা জানান,অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে নদী ভাঙনের ঝুঁকি। হুমকির মুখে পড়েছে নদী পাড়ের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। বালুবাহী ভারী ট্রাকের দাপটে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেড়েছে ধুলাবালির যন্ত্রণা ও জনভোগান্তি।

‎এলাকাবাসী আরো জানান, ‎সরকারী ভাবে নদী খনন করার পরে আমরা মনে করছিলাম আমাদের ঘর বাড়ী রক্ষা হল। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে  গভীর গর্তের কারনে  এই নদীই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

‎দিন-রাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে থাকা খুব কষ্ট কর হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং যারা জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

 

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীর  জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card