সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিংসা অতি নিন্দনীয়

মুসলমান মানেই কল্যাণকামী মানুষ। নিজের চেয়ে অন্যের প্রাধান্য মেনে নেওয়া, অপরের মঙ্গল কামনা করা মুসলমানের চরিত্রের অংশ। তাই একজন প্রকৃত মুসলমান কখনো হিংসুক হতে পারে না। কারণ, হিংসা মানে হলো অন্যের প্রাপ্ত অনুগ্রহকে অস্বীকার করা, যা আসলে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ।

কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে—“অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সেজন্য কি তারা তাদেরকে হিংসে করে?” (সুরা নিসা: ৫৪)

হিংসা দু’ধরণের হয়ে থাকে;
১. হিংসুক ব্যক্তি চান, অন্যের প্রাপ্ত সম্পদ, মর্যাদা বা জ্ঞান লোপ পাক এবং তা যেন তার নিজের দখলে আসে।
২. হিংসুক চান, শুধু অন্যের নেয়ামত নষ্ট হোক, তা তার হাতে আসুক বা না আসুক—কোনো ব্যাপার নয়।

দ্বিতীয় রূপটি সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য।

তবে আমরা যেটাকে সাধারণত ‘ঈর্ষা’ বলি, তা ভিন্ন। ঈর্ষার অর্থ হলো: “আল্লাহ যেন তাকেও একই নেয়ামত দান করেন।” এতে অন্যের নেয়ামত নষ্ট হওয়ার বাসনা থাকে না।

নবী করীম ﷺ এ বিষয়ে বলেছেন—
“দু’জন ব্যক্তির উপর ঈর্ষা হওয়া উচিত;
এক. যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, আর সে তা কল্যাণের কাজে ব্যয় করে।
দুই. যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন, আর সে তা দ্বারা বিচার করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” (বোখারী)

হিংসা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী হারাম। কারো জন্য অন্যের প্রতি হিংসা রাখা বৈধ নয়। কোরআনে আছে—“হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে।” (সুরা ফালাক: ৫)

রাসূল ﷺ আরও বলেছেন—“তোমরা একে অপরের সাথে দুশমনি কোরো না, হিংসা কোরো না, সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থেকো।” (বোখারী, মুসলিম)

আরেক হাদিসে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে—“হিংসা থেকে বাঁচো। তা সৎকর্মকে এমনভাবে গ্রাস করে নেয়, যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে ফেলে।” (আবু দাউদ)

যদি কারো ভালো কিছু চোখে পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে বলা উচিত—“মাশাআল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”কোনো কারণে অন্তরে হিংসার উদ্রেক হলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। কারণ, হিংসা শুধু অন্যের জন্য নয়, নিজেরও ক্ষতির কারণ। এটি মানুষকে ভেতর থেকে গ্রাস করে, সৎকর্মকে নিঃশেষ করে দেয়, সম্পর্কের ভ্রাতৃত্বকে ভেঙে দেয়।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট।
ইফতেখারুল হক হাসনাইন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

হিংসা অতি নিন্দনীয়

Update Time : ১২:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

মুসলমান মানেই কল্যাণকামী মানুষ। নিজের চেয়ে অন্যের প্রাধান্য মেনে নেওয়া, অপরের মঙ্গল কামনা করা মুসলমানের চরিত্রের অংশ। তাই একজন প্রকৃত মুসলমান কখনো হিংসুক হতে পারে না। কারণ, হিংসা মানে হলো অন্যের প্রাপ্ত অনুগ্রহকে অস্বীকার করা, যা আসলে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ।

কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে—“অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সেজন্য কি তারা তাদেরকে হিংসে করে?” (সুরা নিসা: ৫৪)

হিংসা দু’ধরণের হয়ে থাকে;
১. হিংসুক ব্যক্তি চান, অন্যের প্রাপ্ত সম্পদ, মর্যাদা বা জ্ঞান লোপ পাক এবং তা যেন তার নিজের দখলে আসে।
২. হিংসুক চান, শুধু অন্যের নেয়ামত নষ্ট হোক, তা তার হাতে আসুক বা না আসুক—কোনো ব্যাপার নয়।

দ্বিতীয় রূপটি সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য।

তবে আমরা যেটাকে সাধারণত ‘ঈর্ষা’ বলি, তা ভিন্ন। ঈর্ষার অর্থ হলো: “আল্লাহ যেন তাকেও একই নেয়ামত দান করেন।” এতে অন্যের নেয়ামত নষ্ট হওয়ার বাসনা থাকে না।

নবী করীম ﷺ এ বিষয়ে বলেছেন—
“দু’জন ব্যক্তির উপর ঈর্ষা হওয়া উচিত;
এক. যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, আর সে তা কল্যাণের কাজে ব্যয় করে।
দুই. যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন, আর সে তা দ্বারা বিচার করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” (বোখারী)

হিংসা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী হারাম। কারো জন্য অন্যের প্রতি হিংসা রাখা বৈধ নয়। কোরআনে আছে—“হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে।” (সুরা ফালাক: ৫)

রাসূল ﷺ আরও বলেছেন—“তোমরা একে অপরের সাথে দুশমনি কোরো না, হিংসা কোরো না, সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থেকো।” (বোখারী, মুসলিম)

আরেক হাদিসে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে—“হিংসা থেকে বাঁচো। তা সৎকর্মকে এমনভাবে গ্রাস করে নেয়, যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে ফেলে।” (আবু দাউদ)

যদি কারো ভালো কিছু চোখে পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে বলা উচিত—“মাশাআল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”কোনো কারণে অন্তরে হিংসার উদ্রেক হলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। কারণ, হিংসা শুধু অন্যের জন্য নয়, নিজেরও ক্ষতির কারণ। এটি মানুষকে ভেতর থেকে গ্রাস করে, সৎকর্মকে নিঃশেষ করে দেয়, সম্পর্কের ভ্রাতৃত্বকে ভেঙে দেয়।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট।
ইফতেখারুল হক হাসনাইন