সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টুঙ্গিপাড়ায় বেগুনের বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষীরা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চলতি মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম থাকায় খুশি উপজেলার বেগুন চাষিরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদের। বর্তমানে বেগুন ক্ষেত পরিচর্যা ও তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করেছেন চাষিরা। গত মৌসুমের চেয়ে এবার প্রায় ২০ হেক্টর বেশি জমিতে বেগুন চাষাবাদ হয়েছে। ভাঙর, বিটি বেগুন ও বারি বেগুন-৫ এই তিন জাতের বেগুনের চাষাবাদ করেছেন উপজেলার ৭৫ জন কৃষক। কৃষি দপ্তর থেকে চাষীদের বিনামূল্যে সার, বীজ, নেটসহ ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ দেয়া হয়েছে।

ফলে উপজেলার ৫০ হেক্টর জমির গাছে গাছে এখন বেগুন ঝুলে রয়েছে। সকাল ও বিকালে জমির গাছ থেকে বেগুন তুলে বাজারে বিক্রি করছেন তারা। কিটনাশক ব্যবহার না করার ফলে এ উপজেলার বেগুনের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারা বেগুন কিনছেন। পরে তা ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য।

পাটগাতী ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের কৃষক হানিফ ফকির বলেন, চলতি রবি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বিটি বেগুন চাষাবাদ করেছি। ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো থাকায় খুবই খুশি। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ, ফাঁদ, নেট পেয়ে বেগুন চাষাবাদে খরচ কম হয়েছে। এবার বেগুনে বেশ লাভবান হবো।

কুশলি ইউনিয়নের দক্ষিণ বসুরিয়া মনির মোল্লা ও ফায়জুল মোল্লা বলেন, আমরা দুইজন ২ বিঘা জমিতে ভাঙর জাতের বেগুনের চাষাবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় এবার বেগুনের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া বাজারে ভালো দাম রয়েছে। তাই আমরা খুব আনন্দিত।

টুঙ্গিপাড়া কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উঁচু জায়গা গুলোতে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৩৫ টন ফলন হয়েছে। বাজারে পাইকারি ও খুচরা মূল্য ভালো থাকায় কৃষকেরা খুবই খুশি। শুরু থেকে কৃষি বিভাগ থেকে তাদেরকে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে বেগুনের চাষাবাদ আরো বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৩৫ টন বেগুনের ফলন হয়েছে। বাজারে কেজি প্রতি খুচরা মূল্য ৪০-৫০ টাকা ও পাইকারি ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ১০-১৫ টাকা বেশি। তাই বেশি দাম পেয়ে খুশি উপজেলার বেগুন চাষিরা। বেগুন চাষাবাদে প্রথমে চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত, পরে সার প্রয়োগ, চারা রোপন, ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন, প্রয়োজন অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করতে হয়। সাধারণত এ অঞ্চলে অক্টোবরে এ জাতের বেগুন চাষাবাদ শুরু করা হয়। ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধারনের উপযোগী হয়। এছাড়া ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে বেগুন পূর্ণরূপ ধারণ করে। এরপর বাজারে বিক্রি করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

টুঙ্গিপাড়ায় বেগুনের বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষীরা

Update Time : ০৮:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চলতি মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম থাকায় খুশি উপজেলার বেগুন চাষিরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদের। বর্তমানে বেগুন ক্ষেত পরিচর্যা ও তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করেছেন চাষিরা। গত মৌসুমের চেয়ে এবার প্রায় ২০ হেক্টর বেশি জমিতে বেগুন চাষাবাদ হয়েছে। ভাঙর, বিটি বেগুন ও বারি বেগুন-৫ এই তিন জাতের বেগুনের চাষাবাদ করেছেন উপজেলার ৭৫ জন কৃষক। কৃষি দপ্তর থেকে চাষীদের বিনামূল্যে সার, বীজ, নেটসহ ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ দেয়া হয়েছে।

ফলে উপজেলার ৫০ হেক্টর জমির গাছে গাছে এখন বেগুন ঝুলে রয়েছে। সকাল ও বিকালে জমির গাছ থেকে বেগুন তুলে বাজারে বিক্রি করছেন তারা। কিটনাশক ব্যবহার না করার ফলে এ উপজেলার বেগুনের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারা বেগুন কিনছেন। পরে তা ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য।

পাটগাতী ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের কৃষক হানিফ ফকির বলেন, চলতি রবি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বিটি বেগুন চাষাবাদ করেছি। ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো থাকায় খুবই খুশি। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ, ফাঁদ, নেট পেয়ে বেগুন চাষাবাদে খরচ কম হয়েছে। এবার বেগুনে বেশ লাভবান হবো।

কুশলি ইউনিয়নের দক্ষিণ বসুরিয়া মনির মোল্লা ও ফায়জুল মোল্লা বলেন, আমরা দুইজন ২ বিঘা জমিতে ভাঙর জাতের বেগুনের চাষাবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় এবার বেগুনের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া বাজারে ভালো দাম রয়েছে। তাই আমরা খুব আনন্দিত।

টুঙ্গিপাড়া কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উঁচু জায়গা গুলোতে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৩৫ টন ফলন হয়েছে। বাজারে পাইকারি ও খুচরা মূল্য ভালো থাকায় কৃষকেরা খুবই খুশি। শুরু থেকে কৃষি বিভাগ থেকে তাদেরকে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে বেগুনের চাষাবাদ আরো বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৩৫ টন বেগুনের ফলন হয়েছে। বাজারে কেজি প্রতি খুচরা মূল্য ৪০-৫০ টাকা ও পাইকারি ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ১০-১৫ টাকা বেশি। তাই বেশি দাম পেয়ে খুশি উপজেলার বেগুন চাষিরা। বেগুন চাষাবাদে প্রথমে চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত, পরে সার প্রয়োগ, চারা রোপন, ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন, প্রয়োজন অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করতে হয়। সাধারণত এ অঞ্চলে অক্টোবরে এ জাতের বেগুন চাষাবাদ শুরু করা হয়। ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধারনের উপযোগী হয়। এছাড়া ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে বেগুন পূর্ণরূপ ধারণ করে। এরপর বাজারে বিক্রি করা হয়।