বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন; অবশেষে  প্রধান শিক্ষিকা সোমা বরখাস্ত।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মানবিকতাকে নাড়িয়ে দেওয়া বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমাকে অবশেষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার  বেতকাপা ইউনিয়নের সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং  রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পলাশবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ গঠিত হওয়ায় এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা সরকারি  বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মাহবুব ইসলাম দোলন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজ ছেলে হাসানুর রহমান ও পুত্রবধূ সোমা আক্তারের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি  একাধিকবার ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলে, সেই সুযোগে তাদের ব্যবহৃত লেপ-তোষক, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ এবং পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা’র বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

স্থানীয়দের মতে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিকতা রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।

 

Share this news as a Photo Card

পলাশবাড়ীতে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন; অবশেষে  প্রধান শিক্ষিকা সোমা বরখাস্ত।

17 February 2026

ওভারপাস-চার লেনেও মিলছে না স্বস্তি: পলাশবাড়ী চৌমাথায় যানজট ও জনদুর্ভোগ চরমে

https://www.dainikbd24.com

পলাশবাড়ীতে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন; অবশেষে  প্রধান শিক্ষিকা সোমা বরখাস্ত।

প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মানবিকতাকে নাড়িয়ে দেওয়া বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমাকে অবশেষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার  বেতকাপা ইউনিয়নের সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং  রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পলাশবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ গঠিত হওয়ায় এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা সরকারি  বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মাহবুব ইসলাম দোলন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজ ছেলে হাসানুর রহমান ও পুত্রবধূ সোমা আক্তারের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি  একাধিকবার ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলে, সেই সুযোগে তাদের ব্যবহৃত লেপ-তোষক, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ এবং পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমা’র বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

স্থানীয়দের মতে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিকতা রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।

 

Share this news as a Photo Card