সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর অবহেলা নয়’—শাপলা কলির প্রচারণায় পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে জীবন

ব্রহ্মপুত্র নদের খরতাপে ক্ষতবিক্ষত চর, নদীভাঙনে ঘরছাড়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস, সাঘাটা–ফুলছড়ির মাটিতে যেন বহু বছরের জমাট বেদনা। এই জনপদের মানুষ যতটা সংগ্রামী, ততটাই উপেক্ষিত। উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আর নিরাপত্তা—সবকিছুই ছিল বহু বছর ধরেই এক ধরনের স্বপ্নের মতো। ২৪ শে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই স্বপ্নগুলো আবার জেগে উঠছে মানুষের মনে। আর সেই জাগরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক তরুণ মুখ—জাহিদ হাসান জীবন।


‎আসন্ন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই তরুণ নেতা প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে কিংবা দুপুরের খরতাপে ব্রহ্মপুত্রের চরে পা ভেজাতে ভেজাতে—জীবন সারাদিন নিরলসভাবে ভোট চাইছেন শাপলা কলি মার্কায়।

‎বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা জেলায় সামনের সারির নেতৃত্বে থেকেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের সেই অভিজ্ঞতা আজ তাকে দিয়েছে আলাদা সাহস ও আত্মবিশ্বাস। ভোটারদের কারো চোখে ক্ষোভ, কারো চোখে ক্লান্তি, আবার কারো চোখে হতাশা—এসব যেন তিনি খুব ভালোভাবে অনুভব করেন। তাই প্রতিটি হাত মেলানোর সময় তিনি শুধুই ভোট চান না, দেন আশ্বাস—“পরিবর্তন হবে, এবার আর মানুষ উপেক্ষিত থাকবে না।”

‎নদীভাঙনে ঘরহারা মমিনুর রহমান বলেন, “দেখলাম অনেক নেতা, কিন্তু কেউ আমাদের কষ্টটা বোঝেনি। জীবন ভাই অন্তত আমাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘আপনাদের ঘরটা রক্ষা করা হবে।’ আমরা বিশ্বাস করতে চাই।”

‎জাহিদ হাসান জীবনও জানেন, সাঘাটা–ফুলছড়ির মানুষের প্রধান যন্ত্রণা নদীভাঙন। এজন্য নিজের সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখেছেন নদী তীর সংরক্ষণ, স্কুল–হাট–রাস্তাঘাট রক্ষা ও পুনর্বাসনকে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চান কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল সার্ভিসের মাধ্যমে।

‎তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছে জীবন শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং “পরিবর্তনের প্রতীক।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচারণার ভিডিও ও বক্তব্য ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‎স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সাঘাটা–ফুলছড়িতে রাজনীতির বাতাস নতুনভাবে বইছে। জাহিদের এই নিরলস পরিশ্রম আসনটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় করে তুলেছে।

‎ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাঁড়িয়ে তিনি যখন বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না”—তখন অনেকেই নিঃশব্দে মাথা নাড়েন।
‎কারণ দীর্ঘদিনের দুঃখ–দুর্দশা শেষে মানুষ সত্যিই একটি পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

আর অবহেলা নয়’—শাপলা কলির প্রচারণায় পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে জীবন

Update Time : ০৭:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ব্রহ্মপুত্র নদের খরতাপে ক্ষতবিক্ষত চর, নদীভাঙনে ঘরছাড়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস, সাঘাটা–ফুলছড়ির মাটিতে যেন বহু বছরের জমাট বেদনা। এই জনপদের মানুষ যতটা সংগ্রামী, ততটাই উপেক্ষিত। উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আর নিরাপত্তা—সবকিছুই ছিল বহু বছর ধরেই এক ধরনের স্বপ্নের মতো। ২৪ শে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই স্বপ্নগুলো আবার জেগে উঠছে মানুষের মনে। আর সেই জাগরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক তরুণ মুখ—জাহিদ হাসান জীবন।


‎আসন্ন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই তরুণ নেতা প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে কিংবা দুপুরের খরতাপে ব্রহ্মপুত্রের চরে পা ভেজাতে ভেজাতে—জীবন সারাদিন নিরলসভাবে ভোট চাইছেন শাপলা কলি মার্কায়।

‎বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা জেলায় সামনের সারির নেতৃত্বে থেকেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের সেই অভিজ্ঞতা আজ তাকে দিয়েছে আলাদা সাহস ও আত্মবিশ্বাস। ভোটারদের কারো চোখে ক্ষোভ, কারো চোখে ক্লান্তি, আবার কারো চোখে হতাশা—এসব যেন তিনি খুব ভালোভাবে অনুভব করেন। তাই প্রতিটি হাত মেলানোর সময় তিনি শুধুই ভোট চান না, দেন আশ্বাস—“পরিবর্তন হবে, এবার আর মানুষ উপেক্ষিত থাকবে না।”

‎নদীভাঙনে ঘরহারা মমিনুর রহমান বলেন, “দেখলাম অনেক নেতা, কিন্তু কেউ আমাদের কষ্টটা বোঝেনি। জীবন ভাই অন্তত আমাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘আপনাদের ঘরটা রক্ষা করা হবে।’ আমরা বিশ্বাস করতে চাই।”

‎জাহিদ হাসান জীবনও জানেন, সাঘাটা–ফুলছড়ির মানুষের প্রধান যন্ত্রণা নদীভাঙন। এজন্য নিজের সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখেছেন নদী তীর সংরক্ষণ, স্কুল–হাট–রাস্তাঘাট রক্ষা ও পুনর্বাসনকে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চান কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল সার্ভিসের মাধ্যমে।

‎তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছে জীবন শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং “পরিবর্তনের প্রতীক।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচারণার ভিডিও ও বক্তব্য ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‎স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সাঘাটা–ফুলছড়িতে রাজনীতির বাতাস নতুনভাবে বইছে। জাহিদের এই নিরলস পরিশ্রম আসনটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় করে তুলেছে।

‎ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাঁড়িয়ে তিনি যখন বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না”—তখন অনেকেই নিঃশব্দে মাথা নাড়েন।
‎কারণ দীর্ঘদিনের দুঃখ–দুর্দশা শেষে মানুষ সত্যিই একটি পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।