সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু : মা ক্লিনিকে ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের চেষ্টা।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আবারও মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় এবং অ/গ্নি/সং/যো/গের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে পলাশবাড়ী পৌর শহরের গোড়াঘাট সড়কের মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে
এ ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রসুতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রসূতি পারভীন আক্তার পারুল বেগম (২৫)-কে সিজার করার জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে অপারেশন শুরু করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। রাত ৪টার দিকে প্রসূতির অবস্থা অবনতি হলে তিনি মারা যান বলে অভিযোগ।

এরপর ক্লিনিকের কর্মীরা মৃতদেহ গোপনে রংপুরে পাঠানোর চেষ্টা করলে রোগীর স্বজনেরা বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্লিনিকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভাঙচুর করে এবং অ/গ্নি/সং/যো/গে/র চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত পারুল বেগম (২৫) পলাশবাড়ী পৌর শহরের জামালপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা ও বিশ্রামগাছী গ্রামের শামিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, এর আগে পারুলের দুই সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল। তৃতীয়বারের সিজার করানোর সময় চিকিৎসার গাফিলতিতেই তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স ফাতেমা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, উপজেলার নুনিয়াগাড়ী সরকারি কবরস্থানের সামনে অবস্থিত ওই মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগমের মালিকানাধীন ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই ক্লিনিকে একাধিক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রতিবারই বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

পলাশবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু : মা ক্লিনিকে ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের চেষ্টা।

Update Time : ১০:০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আবারও মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় এবং অ/গ্নি/সং/যো/গের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে পলাশবাড়ী পৌর শহরের গোড়াঘাট সড়কের মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে
এ ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রসুতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রসূতি পারভীন আক্তার পারুল বেগম (২৫)-কে সিজার করার জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে অপারেশন শুরু করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। রাত ৪টার দিকে প্রসূতির অবস্থা অবনতি হলে তিনি মারা যান বলে অভিযোগ।

এরপর ক্লিনিকের কর্মীরা মৃতদেহ গোপনে রংপুরে পাঠানোর চেষ্টা করলে রোগীর স্বজনেরা বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্লিনিকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভাঙচুর করে এবং অ/গ্নি/সং/যো/গে/র চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত পারুল বেগম (২৫) পলাশবাড়ী পৌর শহরের জামালপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা ও বিশ্রামগাছী গ্রামের শামিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, এর আগে পারুলের দুই সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল। তৃতীয়বারের সিজার করানোর সময় চিকিৎসার গাফিলতিতেই তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স ফাতেমা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, উপজেলার নুনিয়াগাড়ী সরকারি কবরস্থানের সামনে অবস্থিত ওই মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগমের মালিকানাধীন ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই ক্লিনিকে একাধিক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রতিবারই বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।