সাজেদ আহমেদ বলেন, ‘সাগরে ২০ থেকে ৩০টি ট্রলার মাছ ধরছিল। হঠাৎ আরাকান আর্মির সদস্যরা এসে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি ট্রলার ও ৪০ জেলেকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।’এ বিষয়ে বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান সাজেদ আহমেদ।
কিন্তু বিজিবি, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশবাসী জানি না।
ভারতের আদালত কী রায় দেবে আমরা জানি। ফেলানির রায় তারই নজির। এই মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে আটক জেলেরা এই পরিবারগুলোর একমাত্র উপার্জনক্ষ ব্যক্তি।
আর মায়ানমার। নিজেরা গৃহযুদ্ধে জেরবার। আগে মায়ানমার সীমান্তরক্ষীরা মাঝে মাঝে বাহাদুরি দেখাত, আমরা নিরীহ বাঙ্গাল হিসেবে মেনে নিতাম। ইদানিং তাদের তাড়িয়ে আরাকানের দখল নিয়েছে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি। তারা আমাদের জেলেদের সেন্টমার্টিনে যেতে দেয় না, মাছ মারতে দেয় না। প্রতি সপ্তাহে জেলে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার টেরই পায় না।
আগামী ঈদ রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে করার কথা। একজন দুর্ধর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে, না জেলেদের, তা বুঝতে সময় লাগছে। চুপ থাকাই ভাল, কে আর বট বাহিনীর গালি খেতে চায়!
নাহিদ হাসান বলেন, উজানের ব্রহ্মপুত্র থেকে ভাটির সমুদ্র। সর্বত্র জেলেদের জীবন কচু পাতার মত টলমল। তাদের শ্রম ছাড়া আমাদের পাতে মাছ ওঠে না। মুক্তিযুদ্ধে তাদের নৌকাই ছিল আমাদের ভরসা। মানিক বন্দোপাধ্যায় বলে গেছেন, তাদের ঘরে ঈশ্বর বাস করেন না। রাষ্ট্র থেকে বলা হবে, বঙ্গোপসাগর হলো আমাদের দরোজা। কিন্তু সেই সাগরেই আমাদের জেলেদের জলে হাঙ্গর আর ডাঙ্গায় জলদস্যু।
আমরা এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পরামর্শ যেমন দিচ্ছি, তেমনি ভারতীয় জনগণ ও মায়ানমারের জনগণকেও জেলেদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। সেই সঙ্গে ভারত ও মায়ানমারের দূতাবাসগুলো পৃথিবীর যেখানেই আছে, সেখানেই বাংলাদেশিদের ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সংহতি জ্ঞাপনের আহ্বান জানাই। আপনারা যারা আজ উপস্থিত হয়ে আমাদের কথা শুনলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সংগঠিত জনগণই ইতিহাসের নির্মাতা! লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন আটক জেলেদের পরিবারের সদস্য জরিনা বেগম ও কাজলি, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আরিফ, রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যুগ্ম সাধাণ সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু সহ অনেকে।
স্টাফ রিপোর্টার: 











