সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি নির্দেশনা অমান্য ফুলছড়ির জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়েঈদে মিলাদুন্নবী পালন না করায় ক্ষোভ

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আশপাশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও মিলাদ মাহফিল হলেও জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এলাকার একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা হওয়া উচিত। অথচ মহানবীর (সা.) জন্ম ও ওফাত দিবস অবহেলা করায় তাঁরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্বাস আলী বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু যিনি আমাদের ধর্মের প্রেরণা, তাঁর স্মরণ দিবস বিদ্যালয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাদের হোসেন মাস্টার বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) না পালন করা ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি অবমাননা। এটি দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা দাবি করছি।’

ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় যদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপেক্ষা করা হয়, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তিনি দ্রুত শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুপুরের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল স্বল্প পরিসরে করেছি। ভবিষ্যতে যেন আর এমন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকব।’

এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার অন্যতম জায়গা হলো বিদ্যালয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবহেলা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার পথে বড় বাধা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

সরকারি নির্দেশনা অমান্য ফুলছড়ির জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়েঈদে মিলাদুন্নবী পালন না করায় ক্ষোভ

Update Time : ০৮:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আশপাশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও মিলাদ মাহফিল হলেও জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এলাকার একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা হওয়া উচিত। অথচ মহানবীর (সা.) জন্ম ও ওফাত দিবস অবহেলা করায় তাঁরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্বাস আলী বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু যিনি আমাদের ধর্মের প্রেরণা, তাঁর স্মরণ দিবস বিদ্যালয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাদের হোসেন মাস্টার বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) না পালন করা ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি অবমাননা। এটি দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা দাবি করছি।’

ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় যদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপেক্ষা করা হয়, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তিনি দ্রুত শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুপুরের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল স্বল্প পরিসরে করেছি। ভবিষ্যতে যেন আর এমন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকব।’

এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার অন্যতম জায়গা হলো বিদ্যালয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবহেলা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার পথে বড় বাধা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।