উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার গুরুত্ব বহুদিনের। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট-হিলি সংযোগ সড়ক এবং গাইবান্ধা জেলা শহর অভিমুখী আঞ্চলিক মহাসড়ক দুটি প্রধান সড়কের কেন্দ্রবিন্দু এই পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়। ফলে প্রতিদিনই এখানে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে।
এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখন চলমান ও শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে পলাশবাড়ীতে একটি ওভারপাস নির্মিত হয়েছে। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত এই অবকাঠামো উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওভারপাস চালু হওয়ার পরও চৌমাথা মোড়ে যানজট কমেনি। বিশেষ করে ধীরগতির যানবাহন-সিএনজি,ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভ্যান-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র পার্কিং চলছে। এতে মূল সড়ক আংশিক দখল হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন না। দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনার দখলে ফুটপাত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে রিকশা ও ভ্যানকে যাত্রী নামাতে মূল সড়কের একেবারে পাশে থামতে হচ্ছে,যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে এ কারণে যে,পলাশবাড়ী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমাথার আশপাশে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী,পথচারী ও যাত্রী সাধারণকে ঝুঁকি নিয়ে এই ব্যস্ত সড়ক পারাপার হতে হচ্ছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন,যে কোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি,দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত স্ট্যান্ড গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত চার লেন সড়ক ও ওভারপাস এর সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।।
আমিরুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 








