সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকার লাভ না দেওয়ায় আটকে নির্যাতন, ৯৯৯ এ কল,সুদখোর গ্রেপ্তার ১

ভাই আমি গরীব মানুষ। আমি আর টাকা দিতে পারবো না, আপনার দুপায়ে ধরে বলছি আমারে মাফ কইরা দেন। লাভসহ সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও দাদন ব্যবসায়ী বেলাল শেখের (৪৪) চাপিয়ে দেওয়া লাভের অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দিতে না পেরে এভাবেই কাকুতি মিনতি করেও রক্ষা পাইনি ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম (৪৫)।

গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের নাচাই কোচাই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবুল কাসেমের ছেলে আজাদুল ইসলাম বাড়ির পার্শ্ববর্তী ফুটানি বাজারে চা খেতে আসলে বেলাল শেখ তার অফিসের সামনে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অফিসে আটকে রাখে। সেখানে তার ছেলে ও মেয়ে জামাইকে সাথে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক আজাদুলের পকেটে থাকা ১২ হাজার পাঁচ শত টাকা বের করে নেয় । এসময় বাজারে থাকা লোকজন বেলালসহ তার ছেলে ও জামাইকে বাঁধা দিলে তারা তাদের উপর চড়াও হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা ৯৯৯ এ কল করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আজাদুলকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে সুদ ব্যবসায়ী বেলাল শেখকে আটক করে। এসময় তার ছেলে ও মেয়ে জামাই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বেলাল শেখ একজন পেশাদার সুদ ব্যবসায়ী। প্রায় এক বৎসর আগে আজাদুল তার নিকট থেকে এক লাখ টাকায় মাসিক পনের হাজার টাকা চুক্তিতে সুদের উপর গ্রহণ করে। আজাদুল টাকা নেওয়ার সময় অভিযুক্ত বেলাল ৩টি অলিখিত স্ট্যাম্পে তার ও তার স্ত্রী আছুদা বেগমের স্বাক্ষর নেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত সুদের টাকা প্রদান করে। গত দুই মাস পূর্বে সে দাদন ব্যবসায়ীকে সুদ-আসল সহ সমস্ত টাকা পরিশোধ করে। এরপর ভুক্তভোগী আজাদুল তার নিকট হইতে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চাইলে সে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত না দিয়ে দিনের পর দিন তালহাবানা করে।

গত ১০ নভেম্বর বেলালের বাড়িতে গিয়ে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চাইলে সে স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে আজাদুলের নিকট অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা না দিলে বেলাল স্বাক্ষর করা ওই স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহার করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দিবে অথবা ফন্দি ফিকির করে আজাদুলের কাছ থেকে টাকা আদায় করবে। পরবর্তীতে গত ২৪ নভেম্বর (সোমবার) আজাদুলকে আটকে রেখে জোরপূর্বক টাকায় আদায়ের চেষ্টার ২ ঘন্টা পর গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সেলিম রেজা সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ ফুটানি বাজারস্থ বেলাল শেখের দাদন ব্যবসার অফিসে অভিযান চালিয়ে আজাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে এবং দাদন ব্যবসায়ী বেলাল শেখকে আটক করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম বলেন, আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। অভাবের কারনে সুদে টাকা এনে লাভসহ পরিশোধ করার পরও আমাকে আরও টাকা দিতে বলে। কিন্তু আমার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আমি তার কাছে মাফ চাইলেও সে ক্ষমা করেনি। আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি ছেলে ও জামাইকে দিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং: ৪২, তারিখ: ২৫/১১/২০২৫ ইং। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকার লাভ না দেওয়ায় আটকে নির্যাতন, ৯৯৯ এ কল,সুদখোর গ্রেপ্তার ১

Update Time : ০২:২৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ভাই আমি গরীব মানুষ। আমি আর টাকা দিতে পারবো না, আপনার দুপায়ে ধরে বলছি আমারে মাফ কইরা দেন। লাভসহ সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও দাদন ব্যবসায়ী বেলাল শেখের (৪৪) চাপিয়ে দেওয়া লাভের অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দিতে না পেরে এভাবেই কাকুতি মিনতি করেও রক্ষা পাইনি ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম (৪৫)।

গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের নাচাই কোচাই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবুল কাসেমের ছেলে আজাদুল ইসলাম বাড়ির পার্শ্ববর্তী ফুটানি বাজারে চা খেতে আসলে বেলাল শেখ তার অফিসের সামনে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অফিসে আটকে রাখে। সেখানে তার ছেলে ও মেয়ে জামাইকে সাথে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক আজাদুলের পকেটে থাকা ১২ হাজার পাঁচ শত টাকা বের করে নেয় । এসময় বাজারে থাকা লোকজন বেলালসহ তার ছেলে ও জামাইকে বাঁধা দিলে তারা তাদের উপর চড়াও হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা ৯৯৯ এ কল করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আজাদুলকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে সুদ ব্যবসায়ী বেলাল শেখকে আটক করে। এসময় তার ছেলে ও মেয়ে জামাই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বেলাল শেখ একজন পেশাদার সুদ ব্যবসায়ী। প্রায় এক বৎসর আগে আজাদুল তার নিকট থেকে এক লাখ টাকায় মাসিক পনের হাজার টাকা চুক্তিতে সুদের উপর গ্রহণ করে। আজাদুল টাকা নেওয়ার সময় অভিযুক্ত বেলাল ৩টি অলিখিত স্ট্যাম্পে তার ও তার স্ত্রী আছুদা বেগমের স্বাক্ষর নেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত সুদের টাকা প্রদান করে। গত দুই মাস পূর্বে সে দাদন ব্যবসায়ীকে সুদ-আসল সহ সমস্ত টাকা পরিশোধ করে। এরপর ভুক্তভোগী আজাদুল তার নিকট হইতে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চাইলে সে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত না দিয়ে দিনের পর দিন তালহাবানা করে।

গত ১০ নভেম্বর বেলালের বাড়িতে গিয়ে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চাইলে সে স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে আজাদুলের নিকট অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা না দিলে বেলাল স্বাক্ষর করা ওই স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহার করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দিবে অথবা ফন্দি ফিকির করে আজাদুলের কাছ থেকে টাকা আদায় করবে। পরবর্তীতে গত ২৪ নভেম্বর (সোমবার) আজাদুলকে আটকে রেখে জোরপূর্বক টাকায় আদায়ের চেষ্টার ২ ঘন্টা পর গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সেলিম রেজা সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ ফুটানি বাজারস্থ বেলাল শেখের দাদন ব্যবসার অফিসে অভিযান চালিয়ে আজাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে এবং দাদন ব্যবসায়ী বেলাল শেখকে আটক করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম বলেন, আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। অভাবের কারনে সুদে টাকা এনে লাভসহ পরিশোধ করার পরও আমাকে আরও টাকা দিতে বলে। কিন্তু আমার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আমি তার কাছে মাফ চাইলেও সে ক্ষমা করেনি। আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি ছেলে ও জামাইকে দিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং: ৪২, তারিখ: ২৫/১১/২০২৫ ইং। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।