সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে উত্তাপ চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দিনাজপুর-১ আসনে দিন দিন উত্তাপ-উত্তেজনা বাড়ছে। আসনটিতে প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর একদিকে যেমন আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলামের পক্ষে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে, তেমনি তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত দুই প্রভাবশালী নেতা আলহাজ্ব জাকির হোসেন ধলু এবং মামুনুর রশিদ চৌধুরী মামুন। এই চরম কোন্দলে দলের তৃণমূল কর্মীরা পড়েছে ত্রিমুখী-বিড়ম্বনায়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম। এতে দলের একাংশ বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হলেও, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলু গ্রুপ এবং কাহারোলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী মামুন গ্রুপ তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন।

এই দুই নেতা নিজেদের গ্রুপ নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য তারা দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি পুনঃ বিবেচনার দাবি জানিয়ে আবেদন, নিবেদন, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতারা এখনো এক মঞ্চে উঠতে না পারায়, মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যেন ‘অথৈজলে হা-বু-ডু-বু’ খাচ্ছেন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত নয়। তবে মনজুরুল ইসলামের সমর্থক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রার্থী পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং তারা সব মতভেদ ভুলে মনজুরুল ইসলামের ‘ধানের শীষ’ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ২০০১ সালের মতো পুনরায় আসনটি নিজেদের করে নিতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দিনাজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামি ইতোমধ্যে মতিউর রহমানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল ইসলামের নাম ঘোষণার পরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মতিউর রহমানসহ জামায়াতের নেতারা ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। উপজেলা জামায়াতের আমির ও নায়েবে আমিরসহ নেতৃবৃন্দ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন।

বিএনপিসহ ইসলামী দলগুলো আসনটিতে ন্যূনতম ছাড় দিতেও নারাজ। এই আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারণায় নেমেছেন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া, খেলাফত মজলিস অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন, নাম ঘোষণা ও মাঠে কাজ করছেন।

এনসিপি আবু বক্কর সুমন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গণধিকার পরিষদসহ অপর দলসমূহ হাসান মোঃ বদরুজ্জামান চৌধুরী মুক্তা ও মাহমুদুল হাসান, এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, তবে দৌড়ঝাপ করছেন।

সব মিলিয়ে, দিনাজপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটের মাঠে মূল লড়াই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জামায়াতের শক্ত অবস্থান এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর প্রচারণার মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপির এই কোন্দল শেষ পর্যন্ত কার বিজয়ের পথ সুগম করবে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের শেষ দিনের জন্য।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

দিনাজপুর-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে উত্তাপ চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

Update Time : ১০:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দিনাজপুর-১ আসনে দিন দিন উত্তাপ-উত্তেজনা বাড়ছে। আসনটিতে প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর একদিকে যেমন আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলামের পক্ষে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে, তেমনি তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত দুই প্রভাবশালী নেতা আলহাজ্ব জাকির হোসেন ধলু এবং মামুনুর রশিদ চৌধুরী মামুন। এই চরম কোন্দলে দলের তৃণমূল কর্মীরা পড়েছে ত্রিমুখী-বিড়ম্বনায়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম। এতে দলের একাংশ বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হলেও, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলু গ্রুপ এবং কাহারোলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী মামুন গ্রুপ তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন।

এই দুই নেতা নিজেদের গ্রুপ নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য তারা দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি পুনঃ বিবেচনার দাবি জানিয়ে আবেদন, নিবেদন, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতারা এখনো এক মঞ্চে উঠতে না পারায়, মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যেন ‘অথৈজলে হা-বু-ডু-বু’ খাচ্ছেন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত নয়। তবে মনজুরুল ইসলামের সমর্থক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রার্থী পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং তারা সব মতভেদ ভুলে মনজুরুল ইসলামের ‘ধানের শীষ’ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ২০০১ সালের মতো পুনরায় আসনটি নিজেদের করে নিতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দিনাজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামি ইতোমধ্যে মতিউর রহমানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল ইসলামের নাম ঘোষণার পরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মতিউর রহমানসহ জামায়াতের নেতারা ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। উপজেলা জামায়াতের আমির ও নায়েবে আমিরসহ নেতৃবৃন্দ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন।

বিএনপিসহ ইসলামী দলগুলো আসনটিতে ন্যূনতম ছাড় দিতেও নারাজ। এই আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারণায় নেমেছেন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া, খেলাফত মজলিস অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন, নাম ঘোষণা ও মাঠে কাজ করছেন।

এনসিপি আবু বক্কর সুমন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গণধিকার পরিষদসহ অপর দলসমূহ হাসান মোঃ বদরুজ্জামান চৌধুরী মুক্তা ও মাহমুদুল হাসান, এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, তবে দৌড়ঝাপ করছেন।

সব মিলিয়ে, দিনাজপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটের মাঠে মূল লড়াই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জামায়াতের শক্ত অবস্থান এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর প্রচারণার মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপির এই কোন্দল শেষ পর্যন্ত কার বিজয়ের পথ সুগম করবে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের শেষ দিনের জন্য।