সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা-চেয়ারম্যান দ্বন্দ্বে ভিডাব্লিউবি’র ২৬৬ উপকারভোগী চালবঞ্চিত।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে ‘ভিডব্লিউবি’ (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির
আওতায় হতদরিদ্র নারীদের মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও হোসেনপুর ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চার মাসেও শুরুই হয়নি। ফলে ২৬৬ জন দরিদ্র নারী গত চার মাস ধরে সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

সোমবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের ২৬৬ জন উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ মাসের প্রায় ৩২ টন চাল পরিত্যক্ত একটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মজুত রয়েছে। আর্দ্রতা, ইঁদুরের উপদ্রব ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে চালগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

চাল না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপকারভোগীরা। তারা বলেন, “সরকার চাল দিচ্ছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি, ধারদেনা করে দিন কাটাচ্ছি।”

এবিষয়ে হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটু অভিযোগ করে বলেন,“আমরা নিয়ম অনুযায়ী যিথা সময়ে উপকারভোগীদের তালিকা দিয়েছি। কিন্তু মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আমাদের তালিকা থেকে কিছু নাম বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো নতুন তালিকা চাপিয়ে দিয়েছে। আমি আপত্তি করায় চাল বিতরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে আমার উপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।”

অপরদিকে এবিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে দেননি। তবে এখন সব কাগজ হাতে পেয়েছি, আগামী রোববারের মধ্যেই চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এবিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহামেদ বলেন,
“বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে সরকারি সেবার সুফল থেকে দরিদ্র নারীরা বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনৈতিক।
তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

পলাশবাড়ীতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা-চেয়ারম্যান দ্বন্দ্বে ভিডাব্লিউবি’র ২৬৬ উপকারভোগী চালবঞ্চিত।

Update Time : ০৭:২০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে ‘ভিডব্লিউবি’ (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির
আওতায় হতদরিদ্র নারীদের মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও হোসেনপুর ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চার মাসেও শুরুই হয়নি। ফলে ২৬৬ জন দরিদ্র নারী গত চার মাস ধরে সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

সোমবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের ২৬৬ জন উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ মাসের প্রায় ৩২ টন চাল পরিত্যক্ত একটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মজুত রয়েছে। আর্দ্রতা, ইঁদুরের উপদ্রব ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে চালগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

চাল না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপকারভোগীরা। তারা বলেন, “সরকার চাল দিচ্ছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি, ধারদেনা করে দিন কাটাচ্ছি।”

এবিষয়ে হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটু অভিযোগ করে বলেন,“আমরা নিয়ম অনুযায়ী যিথা সময়ে উপকারভোগীদের তালিকা দিয়েছি। কিন্তু মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আমাদের তালিকা থেকে কিছু নাম বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো নতুন তালিকা চাপিয়ে দিয়েছে। আমি আপত্তি করায় চাল বিতরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে আমার উপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।”

অপরদিকে এবিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে দেননি। তবে এখন সব কাগজ হাতে পেয়েছি, আগামী রোববারের মধ্যেই চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এবিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহামেদ বলেন,
“বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে সরকারি সেবার সুফল থেকে দরিদ্র নারীরা বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনৈতিক।
তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।