সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসকেএস এর উদ্যোগে কোরবানির মাংস পেলেন তিন হাজার হতদরিদ্র পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২
  • ৩৪ Time View

১১ জুলাই, ২০২২, সোমবার সকালে এসকেএস ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর নূতনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠ মাঠে তিন হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা, ভরতখালী, মুক্তিনগর, হলদিয়া, কামালেরপাড়া, ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের ২১০০ পরিবার এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি ও উদাখালী ইউনিয়নের ৯০০ পরিবারের মধ্যে এই কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

অংশগ্রহণকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নির্ধারিত ৯টি ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত,দরিদ্র, নদী ভাঙ্গনের শিকার, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, নারী প্রধান পরিবার, মাংস ক্রয়ে অক্ষম ও অসহায় পরিবারকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় এবং তালিকাভূক্ত প্রত্যেক পরিবারকে ২ কেজি করে কোরবানির মাংস বিতরণ দেয়া হয়।

এ উপলক্ষ্যে নূতনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠ মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসকেএস ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। কেননা এ ধরণের আয়োজন সকলে করেন না। এই আয়োজনে আমাদের সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসলামিক রিলিফ। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। উত্তরবঙ্গের দরিদ্র অঞ্চলগুলোর মধ্যে গাইবান্ধাও অন্যতম। এর মধ্যে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তাই এই দুই উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘১১ বছরের বেশি সময় ধরে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এসকেএস ফাউণ্ডেশনকে সাথে নিয়ে কোরবানি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দরিদ্র, নদী ভাঙ্গনের শিকার, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, নারী প্রধান পরিবার এবং মাংস ক্রয়ে অক্ষম অসহায় পরিবারকে ২ কেজি করে মাংস দেওয়া হয়।’

এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন সুইট এবং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মন্ডল। তারা এ মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এলাকার হতদরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ আগামীতে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

কোরবানির মাংস পেয়ে সাঘাটা ইউনিয়নের গোবিন্দি গ্রামের রাহেলা বেগম (৭০) উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, অভাবের তাড়নায় ছেলের ঘরে জায়গা হয়নি। তাই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠেছি। কবে গরুর মাংস খেয়েছিলাম মনে নেই। গরীব মানুষ কোরবানির ঈদ ছাড়া আমাদের গরুর মাংস খাওয়া হয় না। আগের কোরবানিতে গরুর মাংস খেয়েছি। আর এবার কোরবানির ঈদে গরুর মাংস খাবো।

মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসকেএস ফাউণ্ডেশনের সহকারী পরিচালক-ফিল্ড অপারেশন, খন্দকার জাহিদ সরওয়ার ও সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজিংয়ের সমন্বয়কারী আবু সাঈদ সুমন প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গাইবান্ধায় নবাগত ও বিদায়ী পুলিশ সুপারের সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান

এসকেএস এর উদ্যোগে কোরবানির মাংস পেলেন তিন হাজার হতদরিদ্র পরিবার

Update Time : ০৭:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২

১১ জুলাই, ২০২২, সোমবার সকালে এসকেএস ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর নূতনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠ মাঠে তিন হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা, ভরতখালী, মুক্তিনগর, হলদিয়া, কামালেরপাড়া, ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের ২১০০ পরিবার এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি ও উদাখালী ইউনিয়নের ৯০০ পরিবারের মধ্যে এই কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

অংশগ্রহণকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নির্ধারিত ৯টি ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত,দরিদ্র, নদী ভাঙ্গনের শিকার, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, নারী প্রধান পরিবার, মাংস ক্রয়ে অক্ষম ও অসহায় পরিবারকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় এবং তালিকাভূক্ত প্রত্যেক পরিবারকে ২ কেজি করে কোরবানির মাংস বিতরণ দেয়া হয়।

এ উপলক্ষ্যে নূতনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠ মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসকেএস ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। কেননা এ ধরণের আয়োজন সকলে করেন না। এই আয়োজনে আমাদের সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসলামিক রিলিফ। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। উত্তরবঙ্গের দরিদ্র অঞ্চলগুলোর মধ্যে গাইবান্ধাও অন্যতম। এর মধ্যে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তাই এই দুই উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘১১ বছরের বেশি সময় ধরে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এসকেএস ফাউণ্ডেশনকে সাথে নিয়ে কোরবানি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দরিদ্র, নদী ভাঙ্গনের শিকার, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, নারী প্রধান পরিবার এবং মাংস ক্রয়ে অক্ষম অসহায় পরিবারকে ২ কেজি করে মাংস দেওয়া হয়।’

এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন সুইট এবং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মন্ডল। তারা এ মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এলাকার হতদরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ আগামীতে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

কোরবানির মাংস পেয়ে সাঘাটা ইউনিয়নের গোবিন্দি গ্রামের রাহেলা বেগম (৭০) উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, অভাবের তাড়নায় ছেলের ঘরে জায়গা হয়নি। তাই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠেছি। কবে গরুর মাংস খেয়েছিলাম মনে নেই। গরীব মানুষ কোরবানির ঈদ ছাড়া আমাদের গরুর মাংস খাওয়া হয় না। আগের কোরবানিতে গরুর মাংস খেয়েছি। আর এবার কোরবানির ঈদে গরুর মাংস খাবো।

মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসকেএস ফাউণ্ডেশনের সহকারী পরিচালক-ফিল্ড অপারেশন, খন্দকার জাহিদ সরওয়ার ও সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজিংয়ের সমন্বয়কারী আবু সাঈদ সুমন প্রমুখ।