লালমনিরহাটে মেহেদি হাতে হাসপাতালে নববধূ

দৈনিক বাংলাদেশদৈনিক বাংলাদেশ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:০৮ PM, ২৩ এপ্রিল ২০২২

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে যৌতুকের দাবি পুরনে ব্যর্থ হয়ে স্বামীর নির্যাতনে মেহদি হাতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নববধূ ফেরদৌসী বেগম মরিয়ম(২৬)।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির যৌতুক লোভীদের বিচার চেয়ে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন ওই নববধূ।

নববধূ ফেরদৌসী বেগম মরিয়ম লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের পশ্চিম গুড়িয়াদহ খালেক মোড় এলাকার মাইদুল ইসলাম রতনের স্ত্রী।

এজাহারে প্রকাশ, সদর উপজেলার পশ্চিম গুড়িয়াদহ খালেক মোড়ে এলাকার এমদাদুল হকের ছেলে মাইদুল ইসলাম রতনের সাথে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী বিয়ে হয় আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মনজুম আলীর মেয়ে ফেরদৌসী বেগম মরিয়মের। বিয়ের পরের সপ্তাহে নববধূকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বামী মাইদুল ইসলাম রতন। ঢাকায় থাকা খাওয়া অনেক খরচ। তাই নতুন ব্যবসা করতে বাবা মা ও ভাইদের পরামর্শে মরিয়মের কাছে তিন লাখ টাকা ও একটি মোটর সাইকেল দাবি করেন যৌতুক লোভী স্বামী রতন। টাকার জন্য বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে চাপ দেন। বাড়িতে টাকা না চাওয়ায় প্রায় প্রতিদিন রুমের দরজা বন্ধ করে নববধূকে বেধম মারপিট করে স্বামী।

প্রায় দিন মারপিট করে রুমে তালা লাগিয়ে বাহিরে চলে যেত স্বামী রতন। বিনা চিকিৎসায় অনাহারে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল নববধূ। বাবার বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়। স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সহায় করতে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে যৌতুক পুরনের আশ্বাস দিয়ে বাবার বাড়ি যেতে চান নববধূ মরিয়ম।

বাবা মায়ের কাছে যৌতুকের ৩লাখ টাকা ও মোটর সাইকেল দেয়ার শর্তে ১৮ এপ্রিল মরিয়মকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেন রতন। যৌতুকের টাকা নিয়ে বাবাকে ডাকতে বলে কিন্তু নববধূ মোবাইলে তার বাবাকে টাকা নিয়ে আসতে না বলায় নির্যাতনের খড়গ বেড়ে যায়। টাকা না হলে সংসার হবে না। যৌতুকের টাকা ছাড়া মরিয়মের দেখাও করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় রতনের পরিবার।

বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে অসুস্থ্য মরিয়ম চিকিৎসা নিতে স্থানীয় হাসপাতালে যেতে চাইলে নিষেধ করেন। এরএক পর্যয়ে মরিয়মের শ্বাশুরী আর স্বামী মিলে বেধম মারপিট করে ঘরে আটকিয়ে রাখে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে লম্পট স্বামী। মরিয়মের চিৎকারে বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেয়ে মরিয়মের বাবার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে মরিয়মের ভাই ওই বাড়িতে গেলে তাকেও লাঞ্চিত করে ঘরে আটক করে রাখে। পরে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী খবর পেয়ে তাদের ভাই বোনকে উদ্ধার করে আহত মরিয়মকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে যৌতুক লোভী স্বামী রতনকে প্রধান করে নির্যাতনকারী ৪জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন নববধূ মরিয়ম।

হাসপাতালের বেডে থাকা নববধূ ফেরদৌসী বেগম মরিয়ম বলেন, যৌতুকের টাকা আর মোটর সাইকেল ছাড়া ওই বাড়িতে গেলে লাশ হতে হবে বলে হুমকী দিচ্ছে স্বামী আর শ্বাশুরী। বিয়ের মাত্র দুই মাসে প্রতিটি রাত কেটেছে লাঠির আঘাতে। তার পা ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়েছি, চাকুরী করে যৌতুকের দাবি পুরন করতে চেয়েছি। কিন্তু সেটাও মানেনি তারা।

মরিয়মের গরিব বাবা মনজুম আলী বলেন, বিয়ের পরে মরিয়মকে ঢাকায় নিয়ে যায়। কিন্তু কোন ঠিকানা আমাদেরকে দেয়নি। ফোনও বন্ধ ছিল। রতনকে ফোন দিলে রিসিভ করত না। রতনের বাবা মা ফোনে জানাত মেয়ে ভাল আছে। এত নির্যাতনের খবর আমরা জানতাম না। মেয়ের খবর নিতে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম। তাকেও আটকে রাখে। পরে ইউপি সদস্যকে পাঠিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। মেয়ের উপর নির্যাতনের বিচার দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :