1. admin@dainikbd24.com : দৈনিক বাংলাদেশ : দৈনিক বাংলাদেশ
  2. shahriarltd@gmail.com : Shahriar Hossain : Shahriar Hossain
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:

এক বছরে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন হলেও প্রকল্পের হদিস নেই; সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান স্বাধীনকে শোকজ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭৬ বার পঠিত

প্রকল্প গ্রহণ না করেই গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ভূমি হস্তান্তর কর (১%) বরাদ্দের সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ৩ নং দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের বিরুদ্ধে।

গত এক বছরে ইউএনও’র কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৫টি বেয়ারার চেকে এই টাকা তুলে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। অথচ বরাদ্দের এই টাকা পরিষদের ক‌্যাশ বইয়ে তোলা কিংবা ব্যাংক হিসেবেও জমা করা হয়নি। এমনকি টাকার বিপরীতে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভ্যাট ও আয়কর বরাদ্দের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা নির্দেশনা সত্বেও সংশ্লিষ্ট হিসেবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারমান স্বাধীনের বিরুদ্ধে। গত ৫ সেপ্টেম্বর এলজিএসপি-৩ এর উপপ্রকল্প পরিচালক রাহেনুল ইসলামের পরিদর্শন প্রতিবেদনেও এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এতোদিন ঘটনা গোপন থাকলেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগমের ইউনিয়ন পরিদর্শনকালে এসব আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে রোকসানা বেগম গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করে সাতদিনের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন।

চেয়ারম‌্যান স্বাধীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী যুবলীগের সাদুল্লাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক পদেও আছেন। অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ দফায় এই টাকা উত্তোলনের ঘটনায় ইউএনও’র অফিস সহকারী আব্দুল বারির যোগসাজস রয়েছে। ভাগবাটোয়ার উদ্দেশ্যে সুযোগমতো বেয়ারার চেকগুলো উপস্থাপন করেই ইউএনও’র স্বাক্ষর নেয় আব্দুল বারি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পরিষদের সচিব ও চেয়ারম্যানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নামে এ‌্যাকাউন্ট পে চেক প্রদানে এই টাকা উত্তোলনের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ নং দামোদরপুর ইউনিয়নে ভূমি হন্তান্তর কর (১%) বরাদ্দের মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুকূলে ৫টি বেয়ারার চেক ইন্স্যু করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। এরমধ‌্যে ২০২০ সালের ২৬ আগষ্ট ৩ লাখ, ৪ অক্টোবর ৩ লাখ ৫০ হাজার ও ২২ ডিসেম্বর ৪ লাখ টাকার তিনটি বেয়ারার চেক দেয়া হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৫ মে ৪ লাখ ও ৫ জুলাই দেয়া হয় আরও ৪ লাখ টাকার দুটি বেয়ারার চেক। চেক প্রাপ্তির তারিখেই সোনালী ব‌্যাংক সাদুল্লাপুর শাখায় অন‌্য গ্রাহকের হিসাব নাম্বারে চেয়ারম‌্যান স্বাধীন চেকগুলো জমা করে এসব টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দের টাকা গোপনে তুলে নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে পরিষদের মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শোকজ নোটিশ পেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখাতে চেয়ারম্যান স্বাধীন গোপনে নিজের লোকদের টিউবয়েল ও স্প্রে মেশিন বিতরণের অভিযোগ করেন কয়েকজন ইউপি সদস‌্য।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনকালে নথিপত্র যাচাই করে যেসব তথ‌্য-উপাক্ত পাওয়া গেছে তা যথাযথ ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে জবাব দখিল করতে বলা হয়েছে। জবাবের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের মুঠফোনে কল দিলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

এই বিভাগের আরও খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক বাংলাদেশ

Theme Customized BY LatestNews